ট্রাফিক পুলিশের উচিত নিজেদের স্বার্থে শব্দদূষণ প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া: ইকবাল হাবিব
- Published in :
- -Prothom Alo, 9-Nov-22
শব্দদূষণ যে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ, তা এখন পর্যন্ত গ্রাহ্যেই নিচ্ছেন না নীতিনির্ধারকেরা। শব্দদূষণ প্রতিরোধে যাঁদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা, তাঁদের ‘কানে’এই গুরুতর সমস্যার কথা যেন প্রবেশই করছে না। শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তার মানে কিন্তু বিষয়টি এমন নয় যে শব্দদূষণ হঠাৎ করে আপনাকে মেরে ফেলবে। শব্দদূষণ ধীরে ধীরে আপনার জীবনীশক্তি ক্ষয় করবে। জার্মানি থেকে বাংলাদেশে এসে এক নারী একটি গবেষণা করেছিলেন। গবেষণায় উঠে এসেছিল যে ঢাকা শহরের মানুষের স্বাভাবিক আচরণ বদলে গেছে শব্দদূষণের কারণে। মানুষের মধ্যে উচ্চ স্বরে কথা বলা, অল্পতেই মেজাজ হারানো বা ক্ষেপে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় শব্দদূষণ থেকে। শব্দদূষণের এই অভিশাপ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্রাফিক পুলিশ, সিটি করপোরেশন—সেই অর্থে কেউ কখনোই কোনো উদ্যোগ নিয়েছে বলে আমি অন্তত দেখিনি। শব্দদূষণের কারণে কানে কম শোনে বলে অনেকে বারবার হর্ন বাজান। দেখা যায়, চালকদের মধ্যে কারও কারও এই প্রবণতা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হাইড্রোলিক হর্ন। এই হর্ন কিন্তু বেশি ব্যবহার করেন ‘কর্তাব্যক্তিরা’। একটা হাত তুলে এসব হর্ন বাজাতে বাধা দেওয়ার মতো কেউ যেন নেই।এই যে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে শব্দদূষণকে প্রণোদিত করা হচ্ছে, তা বড় ক্ষতি বয়ে আনছে। কিন্তু এ নিয়ে কেউ কর্ণপাত করছেন না। হর্নের শব্দ শুনতে শুনতে হয়তো তাঁরা এসব শোনার মতো অবস্থায় নেই। একবার আমরা শব্দদূষণ ও কানের ক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলাম। সেই সময় আমরা ঢাকার ফার্মগেট ও তেজগাঁওয়ের চারটি স্কুলে পর্যালোচনা করি। আমরা দেখতে পাই, যদি রাস্তা দিয়ে হেঁটে বা রিকশায় করে আসে, তাহলে অধিকাংশ শিশুর মাথা ধরে যায়। চিকিৎসকেরা মনে করেন, এর মূল কারণ শব্দদূষণ। আরও দেখা যায়, ঢাকার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুসের সক্ষমতা কম। এর কারণও বায়ুদূষণ।শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণের মাধ্যমে একটা বিকলাঙ্গ প্রজন্ম তৈরি করা হচ্ছে। এটা কিন্তু ভয়াবহ ঘটনা। আমি মনে করি, চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশন মিলে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। আইনগত দিক থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশের ক্ষমতা রয়েছে। সড়কজনিত, সড়কের আচরণজনিত, সড়কের ব্যবহারজনিত, যা যা আইন আছে, তার সব প্রয়োগ করার ক্ষমতা পুলিশের আছে। সিটি করপোরেশনের আলাদা আইন আছে। বিআরটিএও এ কাজ করতে পারে। ট্রাফিক পুলিশের উচিত, অন্তত নিজেদের সদস্যদের স্বার্থে শব্দদূষণ প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া।
Share On :
Archive by Year
2021
2019
2015
2014
2013
2012
2008
Archive by Media
- Rtv Talkshow
- DBC News
- Channel Nine
- Channel i
- Voice of Workers
- NEWS24
- Jago News
- ATN News
- ATN Bangla
- Desh Rupantor
- Ekattor TV
- Ekhon TV
- Jamuna TV
- Gtv
- SLIUD IUD
- Arch. BU
- The Daily Star
- Sunbd24
- Somoy TV
- Somoy TV Bulletin
- News Bangla 24
- Desh TV News
- Bengal Institute
- Nagorik TV
- Rahabar Multimedia
- Independent Television
- Tritiyo Matra
- ETV Talk Show
- mytv Bangladesh
- Deepto TV
- Keating Fan
- Priyo.com
- amadershomoy
- thereport.live
- songbadprokash
- dhakatimes24
- Daily Inqilab
- Daily Star Bangla
- Desh Rupantor
- Dhaka Post