Skip to content
চকবাজারের ঘটনা অবহেলিত হত্যাকাণ্ড
এ ধরণের দুর্ঘটনার জন্য সিটি করপোরেশনসহ নীতি নির্ধারণী সংস্থাগুলোর দায় রয়েছে বলে মনে করেন পরিবেশ বিষয়ক আইনজীবীরা। এ ধরনের দুর্ঘটনার দায় রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলেও মত তাদের। আর নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দুর্ঘটনার কারণগুলো জানা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় এতো প্রাণহানি।ওয়েব ডেস্কপুরান ঢাকার অলিগলিতে রাত বাড়লেও মানুষের উপস্থিতি কমে না। চকবাজারের চুড়িহাট্টার ঘিঞ্জি আর অপরিসর গলিতে বুধবার রাতেও ভিড় ছিল বেশ। যানজটে নাকাল মানুষগুলো আর ফিরবে না ঘরে। নির্দয় আগুন তাদের পাঠিয়ে দিয়েছে না ফেরার গন্তব্যে। ঠিক দশ বছর আগে পুরান ঢাকার নিমতলীতেই রাসায়নিকের গোডাউন থেকে আগুনে পুড়ে মরেন ১২৪ জন মানুষ। প্রতিবার অগ্নিকাণ্ডের পরই আশে শোক আর আশ্বাসের বার্তা। কারখানাগুলোকে অগ্নিরোধক করার, আবাসিক এলাকা থেকে কেমিকেল গোডাউন সরিয়ে নেয়ার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে বাসিন্দা সরিয়ে নেয়ার, রাস্তা বড় করার। কিন্তু আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতা মেলে না। বিষয়ক আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারবেন না। কিন্তু আবাসিক এলাকাগুলোতেই তো এসব শিল্পগুলোই গড়ে উঠছে। যেটা পুরোটাই আইন লঙ্ঘন। এটাকে প্রতিদিন পরিদর্শন করে একটা চেকের মধ্যে নিয়ে আসার ব্যাপারে দায়িত্ব ছিল সিটি করপোরেশনের। যারা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন তারাই তো জড়িত।’ আর নগর পরিকল্পনাবিদরা, এটিকে দুর্ঘটনা নয়, দেখছেন অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে। তাদের মতে এসব থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা, কারণ নির্ধারণ – এসব হয়েছে আগেই। দরকার শুধু বাস্তবায়ন। নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, একে ঠিক দুর্ঘটনা বলা যাবে না। এটা সকলের অবহেলার শিকার। সেই অর্থে অবহেলিত হত্যাকাণ্ডও বটে। আমরা জানি কী করতে হবে, আমরা জানি কোথায় সমস্যা। এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। শুধু কার্যক্রম করা। তাহলে কী কার্যক্রম পরিকল্পনাই আমাদের দায়? যদি সেটা হয়, তাহলে এর সঙ্গে যারা দায়ী তাদেরকেও দায় নিতে হবে। তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ কিংবা সচেতনতা তৈরির সভা, সম্মেলনে সীমাবদ্ধ থেকে দুর্ঘটনা রোধে লড়তে হবে নাগরিকদের।
Share On :